নীড় পাতা / জেলা জুড়ে / দু’পা হারানো অদম্য দুই বৃদ্ধ!

দু’পা হারানো অদম্য দুই বৃদ্ধ!

মোঃ মিজানুর রহমান, বাগাতিপাড়া :
প্রবল মনবল আর পরিবারের ভালবাসায় দু’পা হারিয়েও জীবন যুদ্ধে দমেননি নাটোরের বাগাতিপাড়ার আব্দুল জব্বার (৬৭) ও নাসির উদ্দিন (৫৮)। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম হওয়ায় পা নেই তবুও পঙ্গুত্ব নিয়েই ভ্যান চালিয়ে নিজেদের সংসার চালাচ্ছেন এই দুই বৃদ্ধ। দশ বছর বয়সে পক্ষাঘাত রোগে দুই পা অকেজো হয়ে পড়ে আব্দুল জব্বারের, আর সড়ক দূর্ঘটনায় দুটি পা হারিয়ে ফেলেন নাসির উদ্দিন। আব্দুল জব্বার উপজেলার স্বরাপপুর গ্রামের মৃত কুরুপ আলীর ছেলে এবং নাসির উদ্দিন স্বরাপপুর গ্রামের আজিজুল ইসলামের ছেলে।
আর দশজনের মতই স্বাভাবিক শরীর নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছিলেন নাসির উদ্দিন। ২০১০ সালে একদিন সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হন। এরপরই পাল্টে যায় জীবনের চিত্র। দূর্ঘটনার পর দীর্ঘ চার বছরের চিকিৎসায় সর্বস্ব খুইয়ে জীবন ফিরে পেলেও পা দুটি চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই হুইল চেয়ারই ছিল একমাত্র ভরসা। একদিকে পঙ্গুত্ব তাকে যেমন করে অসহায় অন্যদিকে পরিবারে উপার্জনের কেউ না থাকায় সংসারে জেঁকে বসে অভাব। উপায় না পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেন। স্থানীয়দের আর্থিক সহযোগীতায় প্রথমে ব্যাটারি চালিত একটি ভ্যান গাড়ি তৈরি করে নিজে চলা ফেরা শুরু করেন। পরে নিজের একটি গরু বিক্রি করে মানুষবাহি চার্জার ভ্যানগাড়ি তৈরি করেন। এখন ওই ভ্যান চালিয়েই প্রায় ৫ বছর ধরে সংসারের খরচ জোগাচ্ছেন নাসির।
অন্যদিকে, আব্দুল জব্বারের গল্পটা একটু ভিন্ন। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ার সময় হঠাৎ পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হন। অভাবের সংসারে উন্নত চিকিৎসা জোটেনি। দু’পায়ের শক্তি হারিয়ে লাঠিতে ভর করে পঙ্গুত্ব জীবন বয়ে বেড়িয়েছেন প্রায় ৫৫ বছর। কিন্তু নিজেকে প্রতিবন্ধি ভেবে সময় নষ্ট করেননি তিনি। প্রবল মনবল নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করে কষ্টে উপার্জিত অর্থ পরিবারে ব্যয় করেছেন। তিনি উপজেলার স্বরাপপুর গ্রামের মৃত কুরুপ আলীর ছেলে। জব্বারের জীবনে একটু পরিবর্তন এনে দিয়েছে নিজের বুদ্ধি, বিদ্যুৎ আর প্রযুক্তি। স্থানীয় এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পুরাতন গাড়ি কিনেন। আর প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের ব্যবহার উপযোগী করে তৈরি করেছেন চার্জার চালিত ভ্যানগাড়ি। এখন স্বাধীন পেশা হিসেবে চার্জার ভ্যান চালিয়ে এনজিও’র টাকা পরিশোধের পাশাপাশি নিজের সংসারও ভালভাবেই চালাচ্ছেন নিজের সংসার।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেরিয়ে সকল সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে উপার্জন করে জীবন চালানো দু’জনের এই আত্মনির্ভরশীলতা অনেক ভাল একটা দৃষ্টান্ত। বাগাতিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান অহিদুল ইসলাম গকুল বলেন, উপজেলা পরিষদ প্রশাসন তাদের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা গ্রহন করবে।

আরও দেখুন

করোনা নিয়ন্ত্রণ `বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা জানতে চায় বিশ্ব`

নিউজ ডেস্ক: দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.