নিজস্ব প্রতিবেদক লালপুর,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,লালপুরের পদ্মার চরে পুষ্টি গুণ সমৃদ্ধ ঢেমশির চাষ করা হয়েছে । বিলুপ্ত প্রায় ঢেমশি বর্তমান সময়ে রাজশাহী বিভাগে প্রথম চাষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বহুমাত্রিক দানাদার খাদ্য হিসেবে পরিচিত ঢেমশির চাষ বিলুপ্ত প্রায়। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে লালপুরের বিলমাড়ীয়া গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মুনতাজ আলী পদ্মা নদীর চরে দিয়াড়শংকরপুর মৌজায় ৩৩ শতাংশ জমিতে ঢেমশির চাষ করেছে । কৃষক মুনতাজ আলীর দাবি বর্তমান সময়ে রাজশাহী বিভাগে ১ম ঢেমশি চাষি সে । প্রতি মণ ঢেমশি ছয় থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ঢেমশি একটি বহুমাত্রিক দানাদার খাদ্য জাতীয় ফসল। ঢেমশি উদ্ভিদের বীজ দেখতে ত্রিকোণাকার। ঢেমশির ইরেজি নাম বাকহুইট (Buckwheat)। ঢেমশি থেকে চাল এবং আটা পাওয়া যায়। ঢেমশি ফুল থেকে মধু পাওয়া যায়। ঢেমশির গাছে ফুল আসার আগে শাক হিসেবে খাওয়া যায়। মাটি:-ঢেমশি চাষের জন্য মাটির পি এইচ ৪-৬ যেকোনো ধরণের মাটিতে চাষ করা যায় , তবে বেলে দোআঁশ মাটি হলে ভালো হয় , পতিত জমিতেও চাষ করা যেতেপারে। জলবায়ু:-ঠান্ডা আদ্রতা যুক্ত জলবায়ুতে ভালো হয় , অঙ্কুরোদগমের সময় তাপমাত্রা ২০-৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড এর বেশি থাকলে ভালো হয়। জাত:-উন্নত জাত গুলি হলো VL-7, PRB-1, হিমপ্রিয়া, শিমলা B-1 তবে দেখাগেছে দানার আকার ও ফলনের দিক থেকে VL-7 এবং PRB-1 জাত টিও ভালো এটি মধু উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত। বপন সময়:- ঢেমশির বীজ বোনার সময় হলো কার্তিক অগ্রহায়ণ মাস। বীজের হার:-বীজ সারিতে বুনলে ৩৩ শতকে ৪ কেজি বীজের প্রয়োজন , সারি থেকে সারির দূরত্ব ২০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ১০ সেন্টিমিটার, বীজ সারিতে লাগানোর সময় ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি গভীরতায় যেন থাকে তাহলে অঙ্কুরোদ্গম ভালো হয়। ছিটিয়ে বীজ বুনলে ৩৩ শতকে ৫ কেজি বীজ লাগে। জীবনকাল ৮০-৯০ দিন , ফলন:- ৩৩শতকে ৮ মণ। বাজার মূল্য:- প্রতি মণ ঢেমশি ছয় থেকে আট হাজার টাকা। ঢেমশি বীজের পুষ্টি গুন : শক্তি ৩৪৩ কিলোক্যালরি , শর্করা ৫৫% , আমিষ ২৪% , টোটাল ফ্যাট ১৭% , কোলস্টেরল ০ মিলিগ্রাম , ডায়টেরি ফাইবার ২৬% , সোডিয়াম ১ গ্রাম , পটাসিয়াম ৪৬০ মিলিগ্রাম (১০%) , ক্যালসিয়াম ১৮ মিলিগ্রাম (২%) , কপার ১.১, লৌহ ২.২০ (২৭.৫%) , ম্যাঙ্গানিজ ১.৩ , ফসফরাস ৩৪৭ মিলিগ্রাম , দস্তা ২.৪ মিলিগ্রাম (২২%), নিয়াসিন ৪৪% , পেনটোথেনিক এসিড রাইবোফ্লেবিন ২২%, থায়ামিন বি১ । এছাড়া ঢেমসির চাল ও আটায় অতিমাত্রায় প্রোটিন, মিনারেল এবং ফাইবার রয়েছে। এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, জিংক, ভিটামিন (বি১, বি২, বি৩, বি৬, বি১২) ও সেলেনিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান। পুষ্টিগুণ ভাতের চেয়ে অনেক বেশি। শর্করা কম থাকায় আর ফাইবার বেশি থাকায় এটি রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রাকৃতিকভাবেই এতে বেশি পরিমাণ আমিষ, ক্যালসিয়াম, জিংকসহ নানা উপাদান আছে বলে শিশু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বেশি আমিষের কারণে গর্ভবতী মা ও শিশুর মায়ের জন্য উপকারী , হাঁড়ক্ষয় রোধ করে , বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে , শিশুর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে , ঢেমশির আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ভূমিকা রাখতে পারে । হৃদরোগী এবং ডায়াবেটিস রোগীর জন্য একমাত্র আদর্শ এবং নিরাপদ খাদ্য , শিশুর ওজন, উচ্চতা, মেধাশক্তি, পেশি শক্তি, হিমোগ্লোবিন লেভেল বৃদ্ধি করে , বেশি পরিমাণ আমিষ থাকায় গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য অতি জরুরি (শিশু প্রচুর দুধ পাবে) , অধিক পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং মন ও দেহ সুস্থ সুন্দর থাকে; হাঁড়ের ক্ষয়রোধ করে, মজবুত করে এবং হাঁড়ের স্বাস্থ্যের গঠন উন্নয়ন করে বলেই শরীরে কোনো ব্যথা থাকে না; বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং নিরাময়ে সহায়তা করে , সব বয়সীদের অ্যাজমা হাড়ক্ষয় রোগ কমাতে সাহায্য করে; হাড় মজবুত করে , কম পরিমাণ শর্করা এবং অধিক পরিমাণ ফাইবার থাকায় রক্তে সুগারের পরিমাণ (ডায়াবেটিস) নিয়ন্ত্রণ করে। এর জন্য একদিকে যেমন রাসায়নিক সার দরকার হয় না তেমনি পোকামাকড় খুব একটা আক্রমণ করে না বলে বালাইনাশকেরও খুব একটা প্রয়োজন পড়ে না। ঢেমশি বিশ্বের প্রথম দানা শস্য হিসাবে চাষ করা হয়। এর উৎপত্তি স্থল দক্ষিণ এশিয়া ৫৩০০ খি : পূর্বে সন্ধান পাওয়া যায়। ঢেমশির ব্যবহার : শাক হিসাবে , মধু উৎপাদনে , সবুজ সার হিসাবে , আটা হিসাবে , চাউল হিসেবে । লাগানোর ৪০ দিনের মধ্যে ফুল আসে। ফুল আসার আগ পর্যন্ত ঢেমশি পুষ্টিকর শাক হিসেবে খাওয়া যায়। শাক একটু টকস্বাদযুক্ত। ফুল আসার ১ দেড় মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয় ফসল কাটা যায়। সাধারণত ভাত হিসেবে খাওয়া হয়। আর চালের মতো ভেজেও খাওয়া যায়। পৃথিবীর সর্বোৎকৃষ্ট এবং সবচেয়ে দামি মধু এ ঢেমশির ফুল থেকেই উৎপাদন হয়। ৩৩ শতাংশ জমিতে ৪১হাজার ২শ টাকা লাভ হতে পারে বলে জানান কৃষক মুনতাজ। বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন , আগামীতে ঢেমশি চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফসল আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে
