নিজস্ব প্রতিবেদক, বড়াইগ্রাম
বড়াইগ্রামের রামাগাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গান না গাওয়ায় ৫ম শ্রেণীর ছাত্রকে ৩শ বার কানধরে উঠবস করানো এবং এ নিয়ে ২-১টি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলনের নামে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর স্বজনেরা। রোববার সকালে বনপাড়া মিশন মার্কেট এলাকায় ঐ শিক্ষার্থীর বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান নির্যাতিত ছাত্র নাজমুস সাদিকের চাচা নাটোর জজকোর্টের আইনজীবি রবিউল আলম সরদার। সংবাদ সম্মেলনে স্কুল ছাত্র নাজমুস সাদিক রাফি, তার চাচী রাজশাহী জজকোর্টের এপিপি এ্যাডভোকেট খায়রুন নাহার কাজল ও পিতা কলেজ শিক্ষক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, বুধবার সহকারী শিক্ষক দীপেন্দ্রনাথ সরকার ৫ম শ্রেণীর বিজ্ঞান ক্লাশে রাফিকে একটি গান গাইতে বললে সে জাতীয় সঙ্গীত ছাড়া কোন গান পারে না বলে জানায়। এতে ঐ শিক্ষক তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ৩শ বার কান ধরে উঠবস করার নির্দেশ দেন। পরে বাধ্য হয়ে সে কানধরে তিনশ বার উঠবস করে। এ সময় ঐ শিক্ষক বেত হাতে নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং অপর একজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে থেকে উঠবস করার পরিমাণ গণণা করছিল। ইতোঃপূর্বেও মাস ছয়েক আগে তুচ্ছ ঘটনায় এ শিক্ষক রাফিকে ১৭ টি বেত্রাঘাত করেছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কোন ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে এ শিশু শিক্ষার্থীর উপর বারবার এমন অমানবিক নির্যাতন করছেন ঐ শিক্ষক। এদিকে, এ ব্যাপারে দেশের শীর্ষস্থানীয় সকল পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে ঐ শিক্ষক সংবাদ সম্মেলনের নামে ২-১টি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উল্টো বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। একদিকে অমানবিক নির্যাতন করা অপর দিকে সে ঘটনা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যাচার করায় রাফির স্বজনেরা রীতিমত ক্ষুব্ধ ও বিস্মিত হয়েছেন। তাই অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তারা। এদিকে, রোববার দুপুরে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর স্বজনেরা বিষয়টির তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার পারভেজের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।
