জহুরুল ইসলাম জহির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালীপূজা উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী বসে ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা। হাজারো মানুষের সমাগমে পুরো এলাকায় যেন মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে। মিষ্টি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পূন্য কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সব বয়সের তরুণ-তরুণীরা। আর মন্দির সংস্করণসহ সব ধরনের ব্যবস্থার আশ্বাস দেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সাত দিনব্যাপী শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দেড়শত বছরের পুরনো নাধাইকৃষ্ণপুর কালীপূজা গ্রামীণ মেলা। ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা মেলাটি যোরুবাবু রাজা নাধাইকৃষ্ণপুর এলাকায় প্রায় দেড়শ বছর আগে শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতা ধরে চলে আসছে এ মেলার কার্যক্রম। চাঁপাইনাববগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের নাধাইকৃষ্ণপুর গ্রামে এ মেলার আয়োজন করা হয়। কালীপূজা মন্দিরের ভক্তরা নিজের পরিবারের ও দেশের মঙ্গল কামনা করে মেলায় দৈনন্দীন জীবনের জিনিসপত্রসহ বাহারি রঙ্গের চুড়ি ফিতা ও আলতা কিনেন ছোট বড় সব বয়সের তরুণ-তরুনীরা। গ্রামের মেঠোপথের দুই ধার জুরে বসেছে বাহারি দোকানীরা। মেলা বিক্রি হচ্ছে কাঠের খাট, আলনা, ড্রেনিস টেবিল, খেলা ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন পূণ্য। এছাড়াও বাহারি মিষ্টির পরশা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা। আর তা কিনতে ভিড় করছে সকলেই।
মেলা দেখা আসা শ্যামল বলেন, নাধাইকৃষ্ণপুর কালী পূজা মন্দিরটি আমার বাবা দাদা কাছে গল্প শুনেছি আজ তা দেখতে আসতে পারায় খুব ভাল লাগছে। আমার পরিবারের সবাই এ মেলা দেখতে আসেন।
বৃষ্টি রায বলেন, কালী মায়ের কাছে আমার পরিবারের ও দেশের সব মানুষের মঙ্গল কামনা করলাম। যাতে সবাই আমরা ভাল ও সুস্থ্যভাবে চলাফেরা করতে পারি।
শরিফ বলেন, মেলাটি নাধাই গ্রামে হলেও যেন মেলা ঘিরে মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। আর এ মেলা প্রতিবছর হবে এমনটা প্রত্যাশা করি।
মিষ্টির দোকানদার বিরেন হেমরম বলেন, আমি ২০ বছর ধরনের নাধাই কালী পূজা মেলা মিষ্টি দোকান দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি বিক্রয় করে আসছি। আর মেলায় ভালই বেচা বিক্রি হয়।
মনোহারির দোকানী মারুফ বলেন, কালী পূজার শুরু একদিন পর থেকে এ মেলাটি ভালভাবে লাগে। আর ছোট বড় সব বয়সীয় তরুণ-তরুণীরা তাদের পছন্দের জিনিসগুলো কিনতে আসে। বেচা বিক্রি ভাল হওয়ায় ভাল লাগছে।
নাধাইকৃষ্ণপুর কালীপূজা মন্দিরের সভাপতি শ্রী ধনপাত রায় বলেন, প্রশাসনের কোন ধরনের সহযোগিতা না পেলেও নিজেদের অর্থায়নের এ মেলার আয়োজন করে আসছে এলাকাবাসী। ঐতিহ্য যে ধরে রাখতেই বিন্দু, আদিবাসি ও মুসলিম জাতির অর্থায়নের চলে এ মেলা।
নাধাইকৃষ্ণপুর কালীপূজা মন্দির সদস্য সচিব শ্রী সুফল রায় বলেন, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের দিক বিবেচনা করে সাত দিনব্যাপী এ মেলায় স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকার দৃষ্টি দিবেন আমরা আশা করি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একমাত্র বড় কালীপূজা মন্দির ও মেলা।
সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, নাসরিন আকতার বলেন, পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে না পারলে আসল সংস্কৃতিটাকে টিকিয়ে রাখা যায় না। তাই স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসার আহŸান দরকার।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, নাধাইকৃষ্ণপুর কালী পূজা মেলা একটি গুরুত্ব পূণ হওয়ায় অনেক লোকের সমাগম হয় এ গ্রামীণ মেলায়। তিনি আরো বলেন, ঐতিহ্যবাহী কালীপূজা গ্রামীণ মেলাটিকে টিকিয়ে রাখতে আগামীতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দেন।
ঐহিত্যবাহী মেলায় রকমারির পূন্যের সমারাহ নিয়ে বসেছে প্রায় দুইশতাধিকের বেশি দোকান। রয়েছে প্রতিবন্ধীদের একটি সার্কাস। কালীপূজা মেলাটি চলবে সাত দিন ব্যাপী।
