বৃহস্পতিবার , মার্চ ২৭ ২০২৫
নীড় পাতা / উত্তরবঙ্গ / গুরুদাসপুরে গর্ভবতী নারীর শরীরে ভুল রক্ত প্রয়োগে গর্ভের শিশু মৃত্যু

গুরুদাসপুরে গর্ভবতী নারীর শরীরে ভুল রক্ত প্রয়োগে গর্ভের শিশু মৃত্যু

ঘটনায় ক্লিনিকের পরিচালকসহ তিনজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক গুরুদাসপুর ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,নাটোরের গুরুদাসপুরে সাথী খাতুন নামের ৯ মাসের এক গর্ভবর্তীর
নারীর শরীরে ভূল রক্ত প্রয়োগে নবজাতক শিশু মৃত্যু ঘটনায় আল্পনা
ক্লিনিকের পরিচালকসহ তিনজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার
(২২ ফেব্রæয়ারী ) দুপুরের দিকে উপজেলার পৌরসদরের চাঁচকৈড় বাজার
থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর
জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগি অন্তঃসত্ত¡া সাথী খাতুনের (১৮)
স্বামী খায়রুল ইসলাম বাদি হয়ে গত বছরের সেপ্টেম্বরে নাটোরের
গুরুদাসপুর আমলী আদালতে একটি পিটিশন দায়ের করেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ক্লিনিকের পরিচালক আলাল উদ্দিন ও তার সহদর ভাই
সরোয়ার হোসেন এবং রাশেদুল ইসলাম।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম সরোওয়ার
হোসেন কালবেলাকে বলেন, গুরুদাসপুর থানায় মামলা রজু এবং
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৭ ফেব্রæয়ারি আমলী আদালত
নির্দেশ দেন। আদালতের ওই নির্দেশনার ভিত্তিতে শনিবার সকালে থানায়
মামলা রজু করে দুপুরেই আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোর্পদ করা
হয়েছে।
নিহত নবজাতকের পিতা মামলার বাদি খায়রুল ইসলাম মেঠোফোনে
কালবেলাকে বলেন, তার স্ত্রী সাথী খাতুনকে গুরুদাসপুরের আলপনা
ক্লিনিকে ভর্তি করিয়েছিলেন। সেখানে রক্তের গ্রæপ ভুল নির্ণয় করে
‘বি পজেটিভের’ স্থলে ‘এ পজেটিভ’ এক ব্যাগ রক্ত প্রয়োগ করে
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। পাশ^প্রতিক্রিয়ায় নবজাতকটি গর্ভেই মারা যায়।
সেসময় গুরুদাসপুরের হাজেরা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের
মাধ্যমে গর্ভের মৃত শিশুকে বের করা হলেও জীবন সংকটে পড়েন তার স্ত্রী।
জানা যায়,ভুক্তভোগি সাথী খাতুন গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট
ইউনিয়নের সাবগাড়ি গ্রামের আব্দুস সালাম মÐলের মেয়ে। সাথীর শ^শুর
বাড়ি ফরিদপুরে। অন্তসত্তা হওয়ার পর তিনি পিতার বাড়ি গুরুদাসপুরেই
ছিলেন। সেসময় রক্তশূণ্যতা দেখা দেওয়ায় গত বছরের ২২ সেপ্টম্বর সকালে
গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজারের নিউ আলপনা ক্লিনিকে
অন্তঃসত্ত¡া সাথীকে ভর্তি করে পরিবারের লোকজন। সেখানে রক্তের গ্রæপ
নির্ণয়ের পর সাথীর শরীরে ভুল রক্ত প্রবেশের পরপরই শ্বাসকষ্ট এবং শরীরজুড়ে

লাল চাকার মতো হয়ে যায়। একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় গর্ভের শিশুর
নড়াচড়া। পরিস্থিতি খারাপ হলে পরের দিন ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে সাথী
খাতুনকে গুরুদাসপুর পৌর সদরের হাজেরা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
সেখানে নতুন করে পরীক্ষার পর জানতে পারেন শরীরে ভুল রক্ত প্রয়োগ করায়
গর্ভের সন্তান মারা গেছে। ওই দিন সিজারিয়ানের মাধ্যমে মৃত
নবজাতকটিকে বের করে ময়না তদন্ত করা হয়। সাথীর অবস্থার আরো
অবনতি হলে ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দীর্ঘদিন
চিকিৎসা শেষে কোনোমতে প্রাণ নিয়ে স্বামীর ঘরে ফেরেন সাথী
খাতুন।
সেসময় হাসপাতালের বেডে শুয়ে সাথী খাতুন কালবেলাকে বলেন,
আলপনা ক্লিনিকে রক্ত গ্রহণের পরপরই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। দুই
বছরের সংসারে এটিই ছিল তার প্রথম সন্তান। অথচ ভুল রক্ত প্রয়োগে তার
গর্ভের সন্তানটি হত্যা করা হয়েছে। তিনিও জীবন সংকটে পড়েছেন।
তিনি এর সঙ্গে জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবি করেন।
এদিকে এই ঘটনায় গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর কালবেলাতে ‘ভুল রক্ত
প্রয়োগে গর্ভের শিশুর মৃত্যু, ক্লিনিক সিলগালা’ শিরোনামে সংবাদ
প্রকাশিত হয়। পুনরায় ক্লিনিক মালিক তিন সহদর ভাই অনুমোদনহীন
ওই ক্লিনিকটি সিলগালার তালা ভেঙে আবারো চালু করেন। নানা
অব্যবস্থাপনার কারণে ২০২২ সালেও এই ক্লিনিকটি সিলগালা করা
হয়েছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সের স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এএসএম
আলমাস কালবেলাকে বলেন, সিলগালা খুলে ক্লিনিক চালু করার
নির্দেশনা নেই। আইন অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও দেখুন

লালপুরে যেভাবে নিহত হলো বাবা-মেয়ে!

নিজস্ব প্রতিবেদক লালপুর,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,, নাটোরের লালপুরে প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কায় বাবা-মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ …