সোমবার , জানুয়ারি ১৭ ২০২২
নীড় পাতা / পূর্ববঙ্গ / সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ওয়ার্ড মেম্বারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ।


নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জঃ


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক ওয়ার্ড সদস্যর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আত্মীয়করণের মাধ্যমে ত্রাণ ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।


বৃহস্পতিবার দুপুরে একই ওয়ার্ডের বিন্নারবন্দ গ্রামের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী ’লীগের সাধারণ সম্পাদক  বুরহান উদ্দিন নামে এক ব্যাক্তি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ৩নং বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মন্নাফ ওরফে মনা মেম্বার নির্বাচীত হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে ওয়ার্ডের গরীব অসহায়দের নামে আসা ত্রাণ, ওএমএসের চাল, ভিজিডি কার্ড, সরকারী ঘর, বয়স্ক ভাত ও গর্ভবতী নারীর নাম দেয়ার কথা বলে টাকা আত্মসাত করছেন বলে জানাগেছে। টাকা ছাড়া সরকারী কোন ধরণের সুযোগ সুবিধা পাননা এ ওয়ার্ডের অসহায় দরিদ্ররা।


লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের হাফানিয়া গ্রামের মৃত আয়েত আলীর ছেলে মজনু মিয়া কে সরকারী ঘর দেয়ার কথা বলে অফিস খরচ বাবদ বিশ হাজার টাকা আগাম নেন ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মন্নাফ। টাকা নেয়ার পর মজনু মিয়া কে ঘর না দিয়ে তার আপন ছোট ভাই আব্দুল হাসিমের নামে সরকারী ঘর বরাদ্ধ দিয়ে নিজেই একটি পতিত জমিতে ঘর নির্মাণ করে ব্যবহার করছেন। একই গ্রামের নুর মিয়ার ছেলে ইসুব আলীর নিকট থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে তাকে ভিজিটির কার্ড দেয়নি। একই ওয়ার্ডের লেদারবন্ধ গ্রামের মৃত আব্দুল আলীর ছেলে আশাদ মিয়াকে ভিজিডি কার্ড দেয়ার কথা বলে তার নিকট থেকে দূর্নীতির মাধ্যমে দুই হাজার টাকা আত্মসাত করেন। বিন্নারবন্দ গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে জবান আলীকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দেয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাত করেন। গর্ভবতি মহিলাদের পুষ্টির তালিকায় নাম দেয়ার কথা বলে বিন্নারবন্দ গ্রামের আক্কাস আলীর গর্ভবতী স্ত্রী মরজিনা ও একই গ্রামের সজাফর মিয়ার স্ত্রী চম্পা বেগমের নাম দেয়ার কথা বলে দূর্নীতির মাধ্যমে জন প্রতি দুই হাজার করে মোট চার হাজার টাকা আত্মসাত করেন বিন্নারবন্দ গ্রামের ইনু মিয়া নামক এক ব্যক্তির কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন, একই গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে  আব্দুল সাত্তার নামে ব্যক্তির কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা কথা বলে দুই হাজার টাকা আত্মসাত করে, একয় গ্রামের  রমিজ মিয়ার ছেলে জামাল মিয়া নামে ব্যক্তির কাছ থেকে ভিজিটি দেওয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা আত্মসাৎকরে।
আবার লেদার বন্দ গ্রামের দুলু মিয়ার ছেলে মুসা মিয়াকে ঘরদেব বলে টাকা চাই টাকা না দেওয়ার কারণে অনেকদিন বিলম্ব করে অন্য লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঘর বিন্নারবন্দ গ্রামের এক ব্যক্তি কে দেওয়া হয় বলে জানান মুসা মিয়া। 


হাঁফানিয়া গ্রামের শামসুদ্দিন মুন্সির ছেলে মহিউদ্দিনের কাছ থেকে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা আত্মসাৎ করে।


স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এপ্রিলের ৯ তারিখ বিন্নারবন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ত্রাণ বিতরণের সময়ে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়করণের মাধ্যমে ওয়ার্ডের অসহায় লোকদের তালিকায় নাম না দিয়ে ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মন্নাফ তার আপন ভাই, আপন দুই ভাইয়ের স্ত্রী, চাচাতো ভাই, বোন ও ভাগনীর নাম ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় অসহায়দের ত্রাণ আত্মসাত করেন তিনি।


সম্প্রতি ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মন্নাফ ওরফে মনা মেম্বার ওএমএস এর ২২ বস্তা চাল আত্মসাত করার দায়ে তাকে তখনকার তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করলেও বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়েছে বলে জানাগেছে।


ওয়ার্ডবাসী জানান, মন্নাফ মেম্বারের অত্যাচারে বিন্ধারবন্ধ গ্রামের শহীদ মিয়া নামে এক ব্যাক্তি কয়েক বছর ধরে গ্রাম ছাড়া। দুই বছর পূর্বে ত্রাণ সামগ্রী অনিয়মের প্রতিবাদ করায় লেদারবন্ধ গ্রামের মনু মিয়া নামক এক ব্যাক্তি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হোন। সম্প্রতি আনন্দ বাজারে মুসা মিয়া নামক এক পল্লি চিকিৎসকের ফার্মেসীতে হামলা ও ভাংচুর করে। এছাড়া তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ওয়ার্ডের অসহায় নিরহ ব্যাক্তিদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন তিনি সহ তার লাঠিয়ান বাহিনী।


অভিযোগ কারী বুরহান উদ্দিন জানান, আব্দুল মন্নাফ মেম্বার নির্বাচীত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক অনিয়ম ও দূনীর্তি করে আসছেন। তার এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই তার ভাই মোতালিব সহ সে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে। তার লাঠিয়ান বাহিনীর ভয়ে কেউ কথা বলে না। সে প্রকাশ্যে বলে ৫ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে, তার যা মন চায় তাই করবে।


অভিযুক্ত ওয়ার্ড সদস্য আব্দুন মন্নাফ বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, তিনি কোনো অনিয়ম, দূর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। সরকারী ঘর অন্যজনের নামে এনে নিজের ভাইয়ের নামে দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন।


তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জি এ বিষয়ে বলেন, দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড সদস্যর বিরোদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও দেখুন

আবারো নাটোরে নগরমাতা উমা চৌধুরী জলি

নিজস্ব প্রতিবেদক: আবারো নাটোরে পৌরমাতা নির্বাচিত হলেন উমা চৌধুরী জলি। নাটোর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ …