বৃহস্পতিবার , ফেব্রুয়ারি ২২ ২০২৪
নীড় পাতা / টপ স্টোরিজ / শীতে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত নাটোর

শীতে পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখরিত নাটোর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
শীতের শুরু থেকেই পরিযায়ী পাখির আনাগোনা আর কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চলনবিল খ্যাত নাটোর। কোথাও কোথাও স্থায়ী আবাস গড়ে করছে বসবাস। এ অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসা পেয়ে যেন আপন করে নিয়েছে এখানকার পরিবেশকে। তবে পাখি শিকার তেমন নেই বলেই পাখির সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

তারপরেও, শিকারীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোসহ দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি স্থানীয়দের।

অবুঝ পাখিও প্রেম-ভালবাসা বুঝে। আর তাইতো নাটোরবাসীর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে প্রতিবছর শীতের শুরুতেই ফিরে ফিরে আসে এই অতিথি পাখিরা। জলাশয়ে ভেসে মাছ শিকার কিংবা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যাবার নয়নাভিরাম দৃশ্য এবং কলকাকলীতে মুখর এখন নাটোরের বিভিন্ন বিল আর জলাশয়। নাটোরের বড়ভিটা ও মল্লিকহাটি বিল, নলডাঙ্গার সমসখলসি, কাফুরিয়ার কালিকাপুর কিংবা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের বিলসহ সকল স্থানেই এখন অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। কোথাও কোথাও স্থায়ী আবাস গড়ে করছে বসবাস। এ অঞ্চলের মানুষের ভালোবাসা পেয়ে যেন আপন করে নিয়েছে এখানকার পরিবেশকে।

নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, পাখিপ্রেমী সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল অতিথি পাখি সম্পর্কে নারদ বার্তাকে বলেন, ‘শংকর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিলে কয়েক বছর ধরে শীতের অতিথি পাখি আসে যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। আমরা এই পাখিদের নির্বিঘ্নে বসবাস এবং আনাগোনা করার জন্য বিলের জমির মালিকদের সাথে বসে বিলটিকে পাখিদের জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ পাখিদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল এবং তাদের নিরাপত্তায় সচেতন।’

ভোর সকালে এবং গোধূলিলগ্নে সাধারণ দর্শনার্থীরা এসব বিলের আশেপাশে বেড়াতে আসে পাখিদের কলকাকলি এবং ডানা ঝাপটে দল বেঁধে উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য দেখতে। অনেকেই মগ্ন হয়ে পড়েন পাখিদের ঝাঁকের সাথে সেলফি তুলতে। কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, তারা সবাই পাখিদের আগমনকে প্রতি বছর স্বাগত জানিয়ে থাকেন এবং পাখি শিকার বিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য সকলকে সচেতন করে থাকেন।

সৌন্দর্য পিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার পাশাপাশি প্রতিবছর শীতকালে মৎস্য ভান্ডারখ্যাত চলনবিলসহ নাটোরের বিভিন্ন বিলে দেখামেলে পরিযায়ী পাখির অবাধ বিচরণ। ফসলী জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় খাওয়ার কারণে এসব পাখির আগমনে বিলের ফসলের যেমন উপকার, তেমনি এ অঞ্চলের জীববৈচত্র্য তথা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়। কিন্ত বর্তমানে পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোসহ দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহরিয়াজ বলেন, সুদূর সাইবেরিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে অধিক শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্য পাখিগুলো আমাদের দেশে আসে। অথচ, আমাদের দেশের কিছু খারাপ মানুষ এসব পাখি শিকার করতে পছন্দ করেন। এই অপকর্ম থেকে পাখি শিকারীরা যেন বিরত থাকে তার জন্য প্রতিবছরের মতো বর্তমানে এবং আগামীতেও প্রশাসনিক সকল পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ ধরনের সচেতনতামূলক কাজে অগ্রণী ভূমিকার রাখার জন্য সাংবাদিকসহ নাটোরের সচেতন সমাজকে ধন্যবাদ জানান মোহাম্মদ শাহরিয়াজ।

বন বিভাগের তথ্যমতে এ অঞ্চলে প্রায় ২১ প্রজাতির অতিথি পাখি প্রতিবছর আসে আর প্রায় ৩ প্রজাতির পাখি গেড়েছে স্থাযী আবাস। পরিবেশেরে ভারসাম্য বজায় রাখতে এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র রক্ষায় স্থানীয়দের পাশাপাশি এগিয়ে আসবে প্রশাসন এমনটাই প্রত্যাশা সবার।  

আরও দেখুন

নাটোরে ব্যতিক্রমী একদিনের পথ বইমেলা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘ ’লেখক পাঠক বই, একত্রিত হই’ এই শ্লোগান নিয়ে নাটোরে ষষ্ঠ বারের মত …