শুক্রবার , জুলাই ১৯ ২০২৪
নীড় পাতা / অর্থনীতি / লিজ দেওয়া হচ্ছে বন্ধ পাটকল

লিজ দেওয়া হচ্ছে বন্ধ পাটকল

নিজস্ব প্রতিবেদক:
এক দিনেই সরকারি ২৫টি পাটকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ২৮ জুন। ৬ মাস পর সরকার পাটকলগুলোকে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর এ লক্ষ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় একটি নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যেই খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। তা ছাড়া পাটকলগুলো লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ৮-১০ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি করা হবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সরকারি পাটকলগুলো বন্ধ করার পর আবার কোন প্রক্রিয়ায় চালু করা যায় তার চারটি পন্থা ঠিক করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি, জিটুজি, জয়েন্ট ভেঞ্চার বা যৌথভাবে ও লিজ দেওয়া। তবে সরকার শেষ পন্থাটি অর্থাৎ লিজ প্রক্রিয়ায় পাটকলগুলো পুনরায় চালু করতে চাচ্ছে। কারণ এই অন্য তিন পন্থার চেয়ে লিজ দিলে অল্প সময়ের মধ্যে বন্ধ পাটকলগুলো চালু করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া সময়ের আলোকে বলেন, বন্ধ পাটকলগুলো কীভাবে দ্রুত আবার চালু করা যায় আমরা সে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দেনা-পাওনা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিশোধ করা যায় আমরা সে কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছি। পাটকলগুলো চালুর বিষয়ে কয়েকটি পন্থা নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। হয়তো অল্পদিনের মধ্যেই একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সময়ের আলোকে বলেন, পাটকলগুলোকে আর বিক্রি করা হবে নাÑ এটা নিশ্চিত। সরকারি সম্পত্তি সরকারেরই থাকবে। তবে মিলগুলো চালু করতে আমরা চারটি পন্থা ঠিক করেছিলাম। পিপিপি, জিটুজি, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও লিজ দেওয়া। তবে সরকার লিজ পদ্ধতিতে মিলগুলো চালুর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। কারণ এই পন্থায় গেলে অল্প সময়ের মধ্যে মিলগুলো চালু করা যাবে। কত দিনের মধ্যে এবং কতটা মিল চালু করা যাবে সেটি এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে পুরো পাট শিল্পের মাত্র ৬ শতাংশের মতো মার্কেট শেয়ার ছিল বিজেএমসির পাটকলগুলোর। এই অংশের জন্য ৪-৫টি মিল চালু করলেই যথেষ্ট। তবে সরকারের ইচ্ছা সবগুলো পাটকল আবার চালু করা। তবে সবগুলো মিল চালু করাটা নির্ভর করছে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সাড়া কেমন পাওয়া যায় তার ওপর। অবশ্য বন্ধ হওয়া পাটকলগুলোর সব শ্রমিককে যাতে আবার কাজে ফিরিয়ে আনা যায় তার জন্য মিলগুলো চালু করা হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও নির্দেশনা রয়েছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মিলগুলো লিজ দেওয়া হলেও সেগুলো কখনও স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া হবে না। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা মিলগুলো লিজ নিয়ে অপারেট করবে আর বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন মিলগুলো ও এর কার্যক্রম তদারকি করবে। মিলগুলো লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি স্বার্থ রক্ষা, বিজেএমসির স্বার্থ রক্ষা এবং উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা যাতে করা যায় সে দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। মিলগুলো লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা দেখা হবে। বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে যেসব উদ্যোক্তা সঠিকভাবে মিলগুলো চালাতে পারবে তাদেরই লিজ দেওয়া হবে। যেসব শর্তে লিজ দেওয়া হবে মিলগুলো সেসব উদ্যোক্তারা ঠিকমতো পরিপালন করছে কি নাÑ সেগুলো তদারকি করবে বিজেএমসি।
মজুরি শোধ করা হয়েছে ৫০ শতাংশ : অন্যদিকে বন্ধ হওয়া পাটকল শ্রমিকদের দেনা-পাওনা পরিশোধের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লেঅফ করা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের পাওনা মজুরি ও আইনি সুবিধার ৫০ শতাংশ পরিশোধ ইতোমধ্যে করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০ শতাংশ সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে দেওয়ার কথা এগুলো হস্তান্তরের পর্যায়ে আছে। তবে কিছু কিছু শ্রমিক যাদের ব্যাংক হিসাব নেই, নামের গড়মিল আছে যাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে এমন খুব কম সংখ্যক শ্রমিকের পাওনা বকেয়া রয়েছে। এসব শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দিতেও কাজ করছে পাট মন্ত্রণালয়। সরকারি ২৫টি মিল থাকলেও চালু ২১ মিলের ২৬ হাজার নিয়মিত শ্রমিক করত। এ ছাড়া অনিয়মিত শ্রমিক মোট শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ধারাবাহিক লোকসানের কারণে সরকারি ২৫টি পাটকল বন্ধ করা হয় ২৮ জুন। সে সময় পাটকলগুলোতে কর্মরত প্রায় ২৬ হাজার শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় করা হয়। সারা দেশের পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যেই সেদিন শ্রমিক অবসায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর ব্যবস্থাপনা মডেল সংস্কার নিয়ে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী পাটকলগুলো বন্ধের ঘোষণা দেন। পাটকলগুলোতে লোকসান হচ্ছে জানিয়ে পাটমন্ত্রী সে সময় বলেছিলেন, আমরা লোকসান নিয়ে পাটকল চালাতে পারি না। সরকার চিন্তা করেছে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে এই খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে পাটকলগুলোকে আধুনিকায়ন করে উৎপাদনমুখী করা হবে। তখন এসব শ্রমিক সেখানে চাকরি করার সুযোগ পাবেন।

আরও দেখুন

বড়াইগ্রামে ইউসিসিএ লি.এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেন ওয়াজেদ আলী 

নিজস্ব প্রতিবেদক: বড়াইগ্রাম (নাটোর)  নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় গতকাল বৃহষ্পতিবার ব্যালেট পেপারের মাধ্যমে স্ষ্ঠু,সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ …