বুধবার , জানুয়ারি ১৯ ২০২২
নীড় পাতা / জেলা জুড়ে / বাগাতিপাড়ায় হাট বন্ধ নিয়ে ইউএনও-ওসির পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত

বাগাতিপাড়ায় হাট বন্ধ নিয়ে ইউএনও-ওসির পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত


নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগাতিপাড়াঃ
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় হাট বন্ধ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানা অফিসার ইন চার্জ (ওসি)। বুধবার উপজেলার সোনাপুর হাট বন্ধ নিয়ে উপজেলার এই দুই কর্মকর্তার মধ্যে পাল্টা সিদ্ধান্তর ঘটনা ঘটে।


স্থানীয়রা জানান, সপ্তাহে দু’দিন বুধবার এবং রোববার সোনাপুরের সাপ্তাহিক হাট বসে। কাঁচা সবজি, মাছ মাংসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি হাটে বিক্রি হয়। কিন্তু করোনা সংকট মোকাবেলার কারনে সম্প্রতি গ্রামীন বাজারটি পার্শ্ববর্তী হিজলি-সোনাপুর স্কুল মাঠে স্থানান্তর করা হয়।

বুধবার সকাল থেকেই ওই হাটে লোক সমাগম শুরু হয়। কিন্তু হাটে লোক সমাগমের খবর পেয়ে দুপুর ১২ টার দিকে বাগাতিপাড়া মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিন পুলিশ পাঠিয়ে হাট বন্ধ করে দেন। এর ঘন্টা খানেক পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আবারও হাট চালু করেন।


দয়ারামপুর ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা থানার এস আই আকরাম হোসেন বলেন, এসপি ও ওসি স্যারের নির্দেশে বুধবার বেলা ১২ টার দিকে তারা সোনাপুরের সাপ্তাহিক কাঁচা হাট বাজার বন্ধ করে দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা স্যার এসে পুনরায় সেই হাট বাজার বসিয়ে দেন।


এবিষয়ে মডেল থানার ওসি আব্দুল মতিন বলেন, এতদিন নাটোর বা তার আশে পাশের এলাকায় কোনো করোনা আক্রান্ত রোগী ছিলনা। তাই এই সকল এলাকায় লকডাউন কিছুটা শিথিল রাখা হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে নাটোর জেলার সদর উপজেলাসহ আরো দুইটি উপজেলায় মোট আটজন করোনা রোগী সনাক্তের খবর পাওয়া যায়। এ কারণে নাটোরের পুলিশ সুপার স্যার সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে এবং জনসমাগম থেকে বিরত থাকতে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন। সেই কারণে বিভিন্ন সাপ্তাহিক বাজারসহ অস্থায়ী কিছু দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে মোতাবেক সোনাপুর হাটও বন্ধ করা হয়। তবে স্থায়ী কাঁচা মালের দোকান গুলোকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া আছে। কিন্তু ইউএনও’র নির্দেশে আবারও ওই হাট বসানো হয়।

তিনি আরও বলেন, থানা পুলিশ করোনার প্রভাব বিস্তার রোধে যেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে, গণ জামায়েত বন্ধ এবং জনসাধারণকে ঘরমুখো করতে নিরলস ভাবে কাজ করছে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে পুনরায় সোনাপুরের সাপ্তাহিক কাঁচা হাট বাজার বসানো খুবই দুঃখজনক।


এব্যাপারে ইউএনও প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, হাট বাজার চালু বা বন্ধ করা কোনো বিষয় না। ডিসি স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রামীন হাট-বাজার সরিয়ে উন্মুক্ত স্থানে বসানো হয়েছে। ওসি সাহেব কার নির্দেশনা পেয়ে বাজার বন্ধ করেছেন তা তিনি জানেন না। তাছাড়া কাঁচা হাট বাজার না থাকলে মানুষ খাবে কি? খোলা মাঠের হাট বাজার গুলো সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে নিয়মের মধ্যেই চলছে।

আরও দেখুন

বগুড়া জেলার শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করলেন নন্দীগ্রাম থানার এএসআই আবুল কালাম আজাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নন্দীগ্রাম:বগুড়া জেলার শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করেছেন নন্দীগ্রাম থানার এএসআই আবুল কালাম আজাদ। ২০২১ …