শনিবার , ডিসেম্বর ১০ ২০২২
নীড় পাতা / উত্তরবঙ্গ / বগুড়া / নন্দীগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকে সোলায়মান

নন্দীগ্রামে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যস্ত থাকে সোলায়মান

নিজস্ব প্রতিবেদক, নন্দীগ্রামঃ
‘‘শিক্ষার আলো ঘরে ঘরে জ্বালো” এ স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্যদান করা হয়। সেখানে শান্তি-শৃঙ্খলারও প্রয়োজন। সেই দায়িত্বপালন করতে ব্যস্ত বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘার মানসিক ভারসাম্যহীন সোলায়মান (৫৫)। যাকে সবাই সোলায়মান পাগল বলে জানে। দীর্ঘদিন ধরে সে এ দায়িত্বপালন করে আসছে। সে রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা রক্ষা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখায় স্বেচ্ছায় দায়িত্বপালন করে থাকে। অনেকদিন পূর্বে নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বিলদহর গ্রাম হতে পরিবারের সাথে নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা এসে বসবাস শুরু করে সোলায়মান। তার পিতার নাম ফরু প্রামানিক। তার পরিবারে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে দ্বিতীয়।

অনেক আগেই তার পিতার মৃত্যু হয়েছে। এক বছর আগে তার মায়ের মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী তাকে সোলায়মান পাগল বলেই জানে। সে পাগল হলেও শিক্ষা ও শিক্ষিত ব্যক্তিদের মর্যাদা দিতে কখনো ভুল করে না। তার দৃষ্টিতে কোন ভদ্র বা শিক্ষিত লোক পড়লেই সাথে সাথে দাঁড়িয়ে স্যালুট করে এবং করমর্দনের জন্য এগিয়ে এসে সম্মান জানায়। দীর্ঘদিন ধরে রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়কে ঘিরে চলে তার জীবনযাত্রা। সে সকালে রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের মূল ফটকে বাদামী টুল পেতে লাঠি হাতে নিয়ে বসে। এ ভাবেই শুরু হয় তার দায়িত্বপালন।

তার কথা ভালোভাবে বোঝা না গেলেও তবুও সে চেষ্টা করে ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলার মধ্যেই চলাফেরা করতে বলে। তার কারণে কেউ কাউকে উত্তাক্ত করার সাহস পায় না। আবার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোথাও কোন ময়লা আবর্জনা পরে থাকলে তা সে পরিস্কার করে। বাড়িতে না থেকে রাতেও সে রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন ঘরে বা কখনো বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়ে। কেউ ডেকে খাবারের জন্য টাকা দিলে বা খাবার দিলে তার খাবার জোটে। আর না দিলে অনাহারে থাকতে হয় তার। সোলায়মানের বড় ভাই আব্দুল করিম বলেন, আমার ভাই ছোট বেলা হতে মানসিক ভারসাম্যহীন। আমরা তাকে বাড়িতে রাখার অনেক চেষ্টা করি কিন্তু সে বাড়িতে থাকে না।

সুযোগ পেলেই বাড়ি থেকে পালিয়ে স্কুলে চলে যায়। রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজমীরি জামান বকুল বলেন, সোলায়মান স্কুলকে খুব ভালোবাসে। সে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের কাজে নানাভাবে সহযোগিতা করে থাকে। স্কুল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে সে নিরলসভাবে কাজ করেই চলছে। আমরা প্রতি মাসে তার পোষাক ও খাবারের জন্য ৩-৪ হাজার টাকা ব্যয় করে থাকি। স্থানীয় ব্যবসায়ী টিপু সুলতান বলেন, সোলায়মানকে এলাকার সবাই ভালোবাসে। স্কুলের প্রতি তার যে ভালোবাসা তা সত্যিই শিক্ষার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগায়। এ ছাড়াও রণবাঘা বাজারে শৃঙ্খলা রক্ষায় তার ভূমিকা রয়েছে।

আরও দেখুন

নন্দীগ্রামে বেগম রোকেয়া দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, নন্দীগ্রাম- বগুড়া: ‘শেখ হাসিনার বারতা নারী পুরুষ সমতা’ এই প্রতিপাদ্যে বগুড়ার নন্দীগ্রামে নানা …