নীড় পাতা / জেলা জুড়ে / গুরুদাসপুর / ক্ষত চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছে নিহত ৩৮জনের পরিবার গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ট্রাজেডির পাঁচবছর

ক্ষত চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছে নিহত ৩৮জনের পরিবার গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ট্রাজেডির পাঁচবছর

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
পাঁচ বছর হলো নাটোরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম ট্রাজেডির। দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ওই মহাসড়ক দুর্ঘটনার দিনটি নীরবে চলে গেল এবারও। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সুধীসমাজ কেউই স্মরণ করলেন না দিনটিকে। খোঁজও নেওয়া হয়নি নিহতদের পরিবারের। এখনও সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ক্ষত চিহ্ন নিয়ে বেঁচে আছে নিহত ৩৮ জনের পরিবার।
২০১৪ সালের ২০ অক্টোবর বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার রেজুর মোড় এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮জন নিহত ও ৪০জন আহত হয়। হতাহতদের মধ্যে বড়াইগ্রামের ১৩ জন এবং গুরুদাসপুর উপজেলার ২৩জনসহ অন্যান্য এলাকার ২ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুদাসপুরের শুধু সিধুলী গ্রামেরই ১৬ জন নিহত হয়। এর মধ্যে একই পরিবারের ৭ ভাইয়ের ৬জন নিহত এবং একজন আহত হন। নিহতরা হলেন- মৃত মফিজ মন্ডলের ছেলে আতাহার, রায়হান, সোহরাব, রব্বেল, কইর ও ছইর। তাদের একমাত্র আহত ভাই রহম আলী এখনো বেঁচে আছেন পঙ্গু অবস্থায়। বর্তমানে তাদের পরিবারের ১৬ জন বিধবার সকলেই রসুন কাটা ও মাছ ধরা যন্ত্র খলসুন তৈরিসহ দিনমজুরি করে কোনোমতে জীবন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন উদ্যোগ নিলে দিনটিকে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির অংশ হিসেবে পালন করা যেত। কারন দেশের অন্যতম দুর্ঘটনাপ্রবণ ওই মহাসড়কে ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা কোনভাবেই কমানো যাচ্ছে না। এদিকে রেজুর মোড়ের ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ৫ বছরেও হতাহতদের পরিবারগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরিবারগুলোকে সরকারীভাবে ১ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও অনেকেই ওই টাকা দিয়েই নিহত স্বামীর রেখে যাওয়া ঋণ শোধ করেছেন।
স্থানীয় ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন জানান, দুর্ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের ১৬ পরিবারকে ১ লাখ করে টাকা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১৬জন বিধবাকে বিধবা ভাতার কার্ড দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীসহ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো জানায়, নিহতরা ছিলেন দরিদ্র। তারা এক চিলতে জমি চাষ করে কোনভাবে জীবন কাটাতেন। অধিকাংশই ছিলেন দিনমজুর। তারপরও তাদের সংসারে ছিলনা সুখের অভাব। কিন্তু রেজুর মোড়ের ওই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তাদের সুখের সংসার তছনছ করে দেয়।
নিহতদের স্ত্রীদের মধ্যে হীরা বিবি, সনেকা, মেহেরা, নাছিমা জানান, তারা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের এক লাখ টাকা ও বিধবা ভাতার কার্ড ছাড়া আর কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি।
সিধুলী গ্রামের এলাহী দুলাই ও শুকুর আলীসহ স্থানীয়রা জানান, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার প্রথম দুই বছর নিহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হলেও পরবর্তীতে আর কোন খবর রাখা হয়নি প্রশাসন বা কোন সংগঠন থেকে।
অবশেষে গণমাধ্যম কর্মির মাধ্যমে বিষয়টি জেনে গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন ২১অক্টোবর সোমবার বিকেলে নিহত পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। সেই সাথে নিহত সোহরাবের স্ত্রী হীরা বিবির ছনের ঘর মেরামতসহ নিহত শরিফের মেয়ে বিথী ও কইরের ছেলে শামীমের পড়াশোনার বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, নিহতের পরিবারের মধ্যে এখনো যারা দুস্থ আছেন তাদের খোঁজখবর নিয়ে সরকারী সহযোগিতা প্রদান করা হবে।#

আরও দেখুন

লালপুরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, লালপুর:নাটোরের লালপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বালক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.